চর বাদামরাজনীতিরামগতি

সকল প্রতিহিংসা উপেক্ষা করে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই -সাখাওয়াত হোসেন জসিম

সাখাওয়াত হোসেন জসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন সত্যতা মিলেনি।

চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে নিষেধ করে দিয়েছেন যেন সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে এক কাপ চাও খাওয়ানো না হয়।

নিজস্ব সংবাদ দাতা::বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় আছেন ২ নং চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন জসিম। bbarta24.net নামের অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর একটি নিউজ রামগতি উপজেলার কিছু ছাত্র নেতার টাইম লাইনে দেখা যায় ।”গরীবের টাকা আত্মসাৎকারী সেই জাসদ নেতা এখন আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী” এই শিরোনামে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী bbarta24.net নিউজটি প্রকাশ করেন। নিউজটি তে বলা হয়েছিল মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকারের গৃহীত ” জমি আছে ঘর নাই” প্রকল্পের অধীনে জনাব সাখাওয়াত হোসেন ঘর দেওয়ার নাম করে মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বাণিজ্য করেছেন। এছাড়াও ঐ নিউজে বলা হয়েছে জনাব সাখাওয়াত হোসেন ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন ।এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করার জন্য জনাব সাখাওয়াত হোসেন কে কল করা হলে তিনি রামগতি নিউজকে সরেজমিনে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুরোধ করেন।

১৫ লাখ টাকা বাণিজ্যের বিষয়ে ২ নং ইউনিয়ন পরিষদের অনেককে জিজ্ঞেস করা হলে কেউ এ বিষয়ে অবগত নন বলে তারা রামগতি নিউজকে জানান। তারা জানান,তারা বর্তমান চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন জসিম এর নামে কখনো কোন অভিযোগ শুনেন নি এবং কখনো কোনো অনিয়মে তিনি জড়িত আছেন বলে তারা অবগত নন। তারা বলেন,এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।বরং আমরা চেয়ারম্যান সাহেবকে আমাদের বিভিন্ন বিপদাপদে আমাদের কাছে পেয়েছি।তার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তিনি ইতিপূর্বে প্রশংসনীয় হয়েছেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবেও আমরা তাকেই চাই।

সরকারের গৃহীত দুটি প্রকল্পের অধীনে ২ নং চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদে চৌদ্দটি পাকা ঘর সহ সর্বমোট ঘর পেয়েছে ১৮৫ টি পরিবার। এই পরিবারগুলোর মধ্যে যতগুলো পরিবারের সাথে কথা হয়েছে সবাই রামগতি নিউজ কে বলেছে,তাদের এই ঘর পেতে তে কোন খরচ হয়নি। ৬ নং ওয়ার্ডের আজিজুল হক এবং রহিম বাদশা রামগতি নিউজকে জানান, ঘর পেতে তাদের কোনো কষ্ট করতে হয়নি এমনকি কোন খরচ হয়নি। তারা রামগতি নিজকে আরো বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব তাদেরকে নিষেধ করে দিয়েছেন যেন সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে এক কাপ চাও খাওয়ানো না হয়।(ভিডিও সহ)

এছাড়াও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় খরুল্লা খাল পুনঃখনন, ইসলামিয়া রোডে ইট বসানো, ইউনিয়নে একশোর উপরে টিউবওয়েল স্থাপন, মাওলা রোডে ইট বসানো, চর বাদাম ও চর নেয়ামত সীমানা রোড মেরামত,হাজী মসজিদ ও চার রাস্তার মোড়ে পাবলিক টয়লেট স্থাপন, সাত নম্বর ওয়ার্ডের মাটির রাস্তায় সোলার প্যানেল সহ দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গবাদিপশু বিতরণ, করোনাকালীন সময়ে প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিভিন্ন উপহারের সুষম বন্টন, ইউনিয়ন পরিষদের ভিক্ষুকদের তালিকা করণ এবং তাদের তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন স্থানে একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ শে মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ,১৭ মার্চ, ১৫ আগস্ট সহ বিভিন্ন দিবস উদযাপন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে জনাব শাখাওয়াত হোসেন জসিম প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

সাক্ষাতে চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, আমাকে নিয়ে করা নিউজ টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি রাজনৈতিক এবং পারিবারিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি বলেন, আপনারা যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন সে নিউজে বলা হয়েছে আমি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাসদ উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব ছিলাম। বরং আমি ২০১৬ সালের ২ নং চর বাদাম ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নমিনেশন প্রাপ্ত একক প্রার্থী ছিলাম। এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হই।এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিউজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারী এবং এর পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষদের জন্য অনেক উপহার পাঠিয়েছেন। আমি তার একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি উনার সবগুলো উপহার মানুষের কাছে সুষম ভাবে বন্টন করে দেওয়া এবং আমানতের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করা । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে কিছু লোক আমার পিছনে পড়েছে।আপনি যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন ,যে বা যারা এসব মিথ্যা নিউজ ছড়াচ্ছে তারা নিজেরাই ২ নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের নমিনেশন চাচ্ছে। জনগণের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়েছে বলেই তারা এখন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তবে তাঁদের নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই বরং আমি তাদের সকল প্রতিহিংসা উপেক্ষা করে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই মিথ্যা নিউজের জন্য এক ছাত্রনেতা ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন। তিনি বলেন একজন ছাত্র নেতা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় তাহলে আমরা তাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তার অরাজনৈতিক ও প্রতিহিংসার কর্মকান্ড দেখে আমরা হতাশ হয়েছি।

এছাড়াও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তাহিদুল ইসলাম সোহেল সহ বিভিন্ন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী তাদের নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইলে চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন জসিমকে নিয়ে করা মিথ্যা নিউজ এর প্রতিবাদ করেন। তাহিদুল ইসলাম সোহেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো, “জনাব শাখাওয়াত হোসেন জসিম ২নং চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা প্রতিকের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ২নং চর বাদাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নির্বাচিত সভাপতি ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান।রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত সভাপতি মরহুম অধ্যক্ষ গোলাম মাওলা চৌধুরী সাহেব এর আপন চাচাতো ভাই।গত কয়েক দিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আমাদের কিছু ছাত্রলীগের ভাইদের আইডি থেকে জসিম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন,বিষয়টা একবারের জন্যও কি চিন্তা করছেন,কার বিরুদ্ধে লেখালেখি করি??আমি এই মিথ্যা,বানোয়াট ও প্যাক নিউজকারীকে নিন্দা জানাই।আমি ব্যক্তি জসিম চেয়ারম্যানের পক্ষে নই,আমি দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে।নৌকা যার আমরা তার।জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!!” এছাড়াও মিথ্যা নিউজ এর প্রতিবাদ করে ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদেরকে স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!

বিস্তারিত......

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
Close
Close